হাওয়া থেকে তৈরি হচ্ছে হীরা!

১ নভেম্বর, ২০২০ ১৭:০১  
বাতাস থেকে কার্বন সংগ্রহ করে পরিবেশবান্ধব হীরা তৈরি করেছেন যুক্তরাজ্যের সবুজ শক্তি সংস্থা ‘ইকোট্রিসিটি’। কার্বন প্রশ্নে বিশ্বের প্রথম “শূন্য প্রভাব” হীরা তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন এই সংস্থার বিজ্ঞানীরা। ইকোট্রিসিটি প্রতিষ্ঠাতা ডেল ভিনস যুক্তরাজ্যের স্ট্রাউড শহরে গড়ে তুলেছেন ‘স্কাই ডায়মন্ড’। পাঁচ বছর গবেষণার মাধ্যমে সংস্থাটির উৎপাদিত হীরাটি রাসায়নিক ও বাহ্যিক দিক থেকে খনি হতে উত্তোলিত হীরার মতোই। ফলে ইতোমধ্যেই এই হীরাকে স্বীকৃতি দিয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল জেমোলজিক ইন্সটিটিউট’। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাদান বিভাগের গবেষণা ফেলো ডঃ পল কক্সন সিএনএনকে বলেছেন, তাপ এবং চাপ দিয়ে কার্বন দ্বারা এই হীরা তৈরি করা হয়েছে।  উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, হীরা তৈরিতে বায়ুমণ্ডল থেকে নানাবিধ রাসায়নিক উপাদান সংগ্রহ করে এর উৎপাদকেরা শক্তির জন্য দ্বারস্থ হয়েছেন সূর্য ও বাতাসের কাছে। মূল্যবান হীরা তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করেছেন বৃষ্টির পানিও। সবমিলিয়ে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে এরকম একটি হীরা তৈরি হতে।

উদ্যোক্তা ভিনস জানিয়েছেন, এই হীরার সম্পূর্ণ উপাদানই আসে বায়ুমণ্ডল থেকে। এটি শুধু স্বল্প বা শূন্য কার্বন নয়। এটি আদতে নেগেটিভ কার্বন। কারণ তারা বায়ুমণ্ডলের কার্বনকে একটি স্থায়ী কার্বন কাঠামোতে নিয়ে এসেছেন। আর এটি হচ্ছে স্কাই ডায়মন্ড।       আগামী বছরের শুরু নাগাদ হীরাগুলো প্রি-অর্ডার করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে স্কাই নিউজ। বলা হচ্ছে, ল্যাবে উৎপাদিত হীরা অনেক সস্তা এবং তাদের জনপ্রিয়তা শিল্পের জন্য একটি বিপর্যয় ঘটাতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে এক পোস্টে বিশ্বের বৃহত্তম হীরা খনি শ্রমিক ডি বিয়ার  জানিয়েছিলেন, ২০১৯ সালে তাদের আয় ৮৭% কমে গেছে।  ফোর্বসের মতে, এতে হীররা গড় দাম ২০% কমে গেছে।